Buddhist website in Bangladesh | Trirotno | Learn about Buddhism
  • Home
  • Jatok
  • Blog
  • Books
    • Bangla Book
      • Tripitak (ত্রিপিটক)
      • বনভান্তে
      • অন্যান্য বই
    • English Book
      • English Religious Books
  • Bondona and Suttra
    • বন্দনা
      • বন্দনা-১
      • বন্দনা-২
      • বন্দনা-৩
      • বন্দনা-৪
    • সূত্রপাঠ
      • আটানাটিয সুত্তং
      • করণীয মেত্ত সুত্তং
      • তিরোক্ড্ডু সুত্তং
      •    সীবলী পরিত্তং
      • অঙ্গুলিমাল পরিত্তং
      • ধজগগ পরিত্তং
  • Religious song
  • Trirotno TV
  • Events
  • More
    • Buddhist Newspaper
    • Buddhist Historical place in bd
    • Great Monk
    • Buddhist Temple
    • Story
      • Bangla Story
      • English Story
    • Poem
  • About Us
Select Page
মানবতাবাদী গৌতম বুদ্ধ

মানবতাবাদী গৌতম বুদ্ধ

by admin | Nov 6, 2018 | blog

Follow by Email
Facebook
fb-share-icon

রাজপ্রাসাদে নয়, লুম্বিনী নামক উদ্যানে হয়েছিল তাঁর জন্ম। জন্মের পর নবজাতককে এক নজর দেখার জন্য রাজপ্রাসাদে জনতার ঢল নামে। হিমালয়ের গভীর অরণ্য থেকে এলেন ঋষি অসিত। তিনি শিশু রাজকুমারকে দেখে অভিভূত হয়ে প্রথমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তৎপর তাঁর দুই চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। ঋষির চোখে অশ্রু দেখে রাজা বিচলিত হয়ে বিনীতভাবে হর্ষ-বিষাদের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে ঋষি বলেন, ‘মহারাজ! এই কুমার মহাজ্ঞানী বুদ্ধ হবেন। জগতে দুঃখ মুক্তির পথ প্রদর্শন করবেন। এ জন্য আমি উচ্ছ্বসিত হয়েছি। কিন্তু আমি বয়োবৃদ্ধ। তাঁর দুঃখ মুক্তির অমিয়বাণী শোনার সৌভাগ্য আমার হবে না। তৎপূর্বে আমার মৃত্যু হবে। এ জন্য মন বিষণ্ন, দুঃখভারাক্রান্ত।’ ভবিষ্যদ্বাণী শুনে রাজা বিষণ্ন হলেন।
একমাত্র পুত্র গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাসী হবে এই চিন্তায় রাজা সারা দিন অস্থির থাকতেন এবং দিনরাত রাজকীয় ভোগ-ঐশ্বর্যে পুত্রকে আবিষ্ট করে সংসারমুখী করার চেষ্টা করতেন। তাঁকে বিবাহবন্ধনেও আবদ্ধ করালেন। কিন্তু জগতের কোনো রূপ-রস তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারল না। কীভাবে মানুষকে ক্রমবর্ধমান দুঃখের রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি দেওয়া যায় সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অর্থাৎ জগতের দুঃখের কারণ অনুসন্ধানে তিনি ২৯ বছর বয়সে অবলম্বন করেন সন্ন্যাসজীবন।
সুদীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনায় তিনি ৩৬ বছর বয়সে আর এক বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধগয়ার বোধি বৃদ্ধের নিচে লাভ করেন বোধি জ্ঞান, জগতে খ্যাত হন বুদ্ধ নামে। জন্মের মতো তাঁর বোধিপ্রাপ্তিও ঘটেছিল প্রকৃতির সান্নিধ্যে। বোধি জ্ঞান লাভের মধ্যে দিয়ে তিনি উপলব্ধি করলেন জগতের প্রকৃত স্বরূপ ‘দুঃখময়তা’। তিনি আবিষ্কার করলেন জগতে দুঃখ যেমন আছে, তেমনি দুঃখের কারণ আছে, দুঃখের নিরোধ আছে এবং দুঃখ নিরোধের উপায়ও আছে। তিনি দুঃখের স্বরূপ বিভাজন করে ঘোষণা করলেন, মানুষ জগতে আট প্রকার দুঃখ ভোগ করে। জন্ম, জরা, ব্যাধি, মৃত্যু, অপ্রিয় সংযোগ, প্রিয় বিচ্ছেদ, ইচ্ছিত বস্তুর অপ্রাপ্তি এবং পঞ্চ স্কন্ধের সমন্বয়ে গঠিত দেহই দুঃখের আকর বা দুঃখ প্রদায়ক। রক্ত-মাংসের দেহধারী মানুষ অবশ্যই এ আট প্রকার দুঃখ কোনো না কোনোভাবে ভোগ করে। দুঃখের ব্যবচ্ছেদের পাশাপাশি তিনি দুঃখের কারণও ঘোষণা করলেন। তিনি মানবজাতির দুঃখভোগের পেছনে ১২ প্রকার কারণ নির্দেশ করেন। এ ১২টি কারণ বৌদ্ধ সাহিত্যে দ্বাদশ নিদান নামে পরিচিত।
উপযুর্ক্ত ধর্ম-দর্শন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বুদ্ধের চিন্তা-চেতনার কেন্দ্রে ছিল মানুষ। তাঁর প্রচারিত ধর্ম-দর্শনের আলোচ্য বিষয় মানুষ, মানবতা এবং মানুষের কল্যাণ সাধন। তাই তাঁর দর্শন মানবতাবাদী দর্শন হিসেবে খ্যাত। তাঁর দর্শনে অতিন্দ্রিয় সত্তা বা ঈশ্বরের কোনো উল্লেখ নেই। আছে মানুষ, মানুষের দুঃখ এবং দুঃখ মুক্তির নির্দেশনা। তাই তাঁর দর্শন মানবতাবাদী দর্শন হিসেবে খ্যাত। অধিবিদ্যাসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন না। তাই ঈশ্বর বিষয়ে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করতেন। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎ শাশ্বত বা অশাশ্বত, সন্ত বা অনন্ত, মৃত্যুর পর আত্মা থাকে বা থাকে না, দেহ ও আত্মাÄ এক নাকি ভিন্ন প্রভৃতি প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যেতেন। তাঁর মতে, ‘কেউ তিরবিদ্ধ হলে প্রথম কাজ হচ্ছে তির উত্তোলন করা, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং ওষুধসেবনপূর্বক তাঁকে আরোগ্য করা। তা না করে কে তির মারল, কোন দিকে থেকে তির নিক্ষিপ্ত হলো, তিরের ফলায় কী ধরনের বিষ ছিল প্রভৃতি অনুসন্ধান করতে গেলে তিরবিদ্ধ মানুষটির মৃত্যু ঘটবে।’ তিনি আরও বলেন, ঈশ্বর আছে কি নেই, জগৎ শাশ্বত বা অশাশ্বত, আত্মা মৃত্যুর পর থাকে কি না প্রভৃতি প্রশ্নের উত্তরের প্রয়োজন নেই। দুঃখে জর্জরিত মানুষের দুঃখ মুক্তির জন্য এগুলো অর্থহীন। বরং দুঃখের কারণ ও তার প্রতিকারের উপায় জানাই অধিক প্রয়োজন।
তাই তিনি অতিপ্রাকৃত বিষয়াদির বদলে প্রকৃতিকে জানা এবং মানবীয় সমস্যাবলি সমাধানের ভারও মানুষের ওপর ন্যস্ত করেছেন। তাঁর মতে, ‘মানুষের মুক্তির জন্য মানুষই যথেষ্ট। মানুষ নিজেই নিজের ত্রাণকর্তা, নিজেই নিজের প্রভু এবং নিজেই নিজের আশ্রয়। মানুষ প্রজ্ঞাযুক্ত এক বিরাট সম্ভাবনাময় সত্তা এবং নিজেই সবকিছু করার অধিকার রাখে।’ তাই বুদ্ধ তাঁর শিষ্যদের উপদেশস্বরূপ বলেছিলেন, ‘আত্মদ্বীপ প্রজ্বলিত করে নিজের মুক্তির পথ পরিষ্কার করো, আত্মশরণ নাও, অন্যের ওপর নির্ভর করো না।’ ব্যক্তিস্বাধীনতা বা আত্মশক্তির প্রাধান্য সম্ভবত প্রাচ্যের দর্শনে বুদ্ধই প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন। ‘অতিপ্রাকৃত সত্তা বা ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়া মানুষ তাঁর কর্মের মাধ্যমে দুঃখ থেকে হতে মুক্তি লাভ করতে পারে’—এ ঘোষণার মাধ্যমে তিনি মানুষের মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে সবার ওপরে স্থান দিয়ে মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন, যার অনুরণন দেখতে পাই কবির ভাষায়—‘সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপরে নাই’।
মৈত্রী করুণা বা প্রেম ভালোবাসা বুদ্ধের ানবতাবাদের প্রকৃষ্ট দিক। তাঁর হাতে ছিল মানবপ্রেমের বাঁশরি, কণ্ঠে ছিল মৈত্রী-করুণার অমৃতবাণী এবং লক্ষ্য ছিল সাম্য ও ন্যায়ের ধর্ম বিতরণে। বুদ্ধ আত্মজয়কে শ্রেষ্ঠ জয় বলে নির্দেশ করেছেন। তিনি হিংসাকে অহিংসা দিয়ে, শত্রুকে মৈত্রী দিয়ে জয় করার উপদেশ দিয়েছেন। হিংসাত্মক মনোভাব মানুষকে উত্তরোত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। এই মহামন্ত্রই সেদিন ভারতবর্ষকে বিশ্বের সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। এই দীক্ষা নিয়ে সম্রাট অশোক চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে পরিণত হয়েছিলেন। দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হিংসা-বিদ্বেষ এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে উন্মত্ত এ পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বুদ্ধের মানবতাবাদী দর্শনের অনুশীলন একান্ত প্রয়োজন। হিংসা নয়, শত্রুতা নয়, যুদ্ধ নয়, জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক, দুঃখ মুক্ত হোক’।

 

জ্ঞান লাভ সত্য লাভই প্রব্রজিতদের প্রকৃত লাভ —বনভান্তে

জ্ঞান লাভ সত্য লাভই প্রব্রজিতদের প্রকৃত লাভ —বনভান্তে

by admin | Nov 4, 2018 | blog

Follow by Email
Facebook
fb-share-icon

এক সময় শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে) নিজ আবাসিক ভবনে ভিক্ষুসঙ্ঘকে দেশনা প্রদানকালে বলেন—তোমরা কিসের উদ্দেশ্যে প্রব্রজিত হয়েছে? লাভের উদ্দেশ্যে নয় কি? কারণ কেহ লোকসানের উদ্দেশ্যে কিছু করে না। তবে তোমাদের পার্থিব কিছু লাভ করা নয়। তোমরা জ্ঞান লাভ ও নির্বাণ লাভের উদ্দেশ্যে প্রব্রজিত হয়েছে। প্রব্রজিত হয়ে চারি আর্যসত্য জ্ঞান লাভ এবং চারি আর্যসত্য লাভ করাই হল তোমাদের লাভ। আবার এখন তোমাদেরকে কি দর্শন করে অবস্থান করতে হবে জান? বুদ্ধকে দর্শন ও ধর্ম দর্শন করে। বুদ্ধ বলেছেন, যে ব্যক্তি বুদ্ধকে দর্শন করতে সক্ষম সে ব্যক্তি ধর্মকেও দর্শন করতে সমর্থ হয়। বুদ্ধকে দর্শন অর্থাৎ বুদ্ধের জ্ঞানকে দর্শন করা, যথা—দুঃখে জ্ঞান, দুঃখ সমুদয়ে জ্ঞান, দুঃখ নিরোধে জ্ঞান, দুঃখ নিরোধগামিনী পটিপদায় জ্ঞান, এই চারি আর্যসত্য জ্ঞানকে দর্শন করাই হল বুদ্ধের জ্ঞানকে দর্শন করা। ধর্ম দর্শন হল দুঃখ সত্য, সমুদয় সত্য, নিরোধ সত্য, মার্গসত্য এ’চারি আর্যসত্যকে দর্শন করাই হচ্ছে ধর্ম দর্শন করা। তাহলে তোমরা কি দর্শন করবে? জ্ঞান দর্শন, সত্য দর্শনই করবে। যদি বলা হয় একজন যুবতী মেয়ে দর্শন করেছি তবে সেটা কি হবে? অজ্ঞানকে দর্শন করা হবে। সেরূপ অজ্ঞান, মিথ্যাকে দর্শন না করে তোমরা জ্ঞান সত্যকেই দর্শন করবে। অজ্ঞান, মিথ্যাকে দর্শন করলে অজ্ঞান, মিথ্যা বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। আর সেই অজ্ঞান, মিথ্যার ফলে দুঃখ, পাপ উদয় হওত তোমাদেরকে জন্ম জন্মান্তর ধরে অসহ্য ভব যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। এভাবে অজ্ঞান, মিথ্যাকে দর্শন করার ফলে যদি ভব যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় তা’ প্রব্রজিতদের জন্য লোকসানই জানবে। অন্যদিকে সর্বদা জ্ঞান ও সত্যকে দর্শন করার ফলে বুদ্ধ দর্শন, ধর্ম দর্শন হওত ভব বন্ধন ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তা’ প্রব্রজিতদের জন্য লাভ (উন্নতি, শ্রীবৃদ্ধি) বলে জানবে। সর্ব নিম্নে কামলোক, তার উপরে রূপলোক, তার উপরে অরূপ লোক, তার উপরে লোকোত্তর। কামলোক, রূপলোক, অরূপলোক এগুলোকে বলা হয় ভব। অর্থাৎ কামভব, রূপভব, অরূপ ভব। সত্ত্বগণের মধ্যে কেহ কামভবকে সুখ মনে করে, কেহ রূপভবকে সুখ মনে করে, কেহ অরূপ ভবকে সুখ মনে করে এবং স্বীয় কাঙ্ক্ষিত সেই ভবের মধ্যে তারা সুখ ভোগে রত থাকে। তোমরা কিন্তু সেসব ভবের মধ্যে না থেকে ভব হতে ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাণ বা লোকোত্তর স্তরে উন্নীত হও। তাহলে যে উদ্দেশ্যে প্রব্রজিত হয়েছ সেই উদ্দেশ্য সার্থক হবে, পরম সুখের অকিকারী হওত তোমাদের নির্বাণ লাভ হবে। বলা বাহুল্য প্রব্রজিতগণকে ভব অন্বেষণ করতে নেই, ভব ভবান্তরে সুখ ভোগের ইচ্ছা তাদের জন্য একেবারেই বেমানান। প্রব্রজিত হয়ে যদি ভব ভবান্তরে ভ্রমণ করতঃ সুখ ভোগের প্রত্যাশী হও তা’ নির্লজ্জের কাজও বটে।

 

বৌদ্ধ ধর্মের মতে, নির্বাণই একমাত্র প্রকৃত সুখ। অন্যান্য ধর্মের মতে কেহ স্বর্গকে আর কেহ ব্রহ্মকে প্রকৃত সুখ বলে। কিন্তু বৌদ্ধধর্র্ম স্বর্গ, ব্রহ্মকেও দুঃখ বলে জানে। কারণ স্বর্গ, ব্রহ্ম লাভে অবিদ্যা, তৃষ্ণা হতে বিমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। স্বর্গ, ব্রহ্মাদি অবিদ্যা তৃষ্ণার অধীন। কাজেই স্বর্গ, ব্রহ্মার মধ্যে প্রকৃত সুখের হদিস মিলে না কখনো। তাই বুদ্ধ বলেছেন—সাধারণ (স্বল্পজ্ঞান) মানুষ আমার এ’ধর্ম অনুধাবন করতে পারবে না। বৌদ্ধধর্ম হল অসাধারণ জ্ঞানের ধর্ম। সাধারণ জ্ঞানের দ্বারা এ’ধর্ম অনুধাবন করা, আচরণ করা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। যাদের নিকট অসাধারণ জ্ঞান থাকে কেবল তারাই এ’ধর্ম আচরণ, অনুধাবন করতে সমর্থ হন। যেমন, কোন পা বিহীন ব্যক্তির পক্ষে কি দৌঁড়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব হয়? হয় না। তবে পা বিদ্যমান থাকলে তার পক্ষে দৌঁড়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব নির্দ্বিধায়। ঠিক তেমনি সাধারণ জ্ঞানের দ্বারা বৌদ্ধধর্ম অনুধাবন, আচরণ করা যায় না। অসাধারণ জ্ঞানের দ্বারাই বৌদ্ধধর্ম অনুধাবন, আচরণ করতে হয়। আচ্ছা, বর্তমান বৌদ্ধ উপাসক যথা—চাকমা, মারমা, বড়ুয়া এমনকি ভিক্ষুদের মাঝেও অসাধারণ জ্ঞানী আছে কি? নেই। বর্তমানে সবাই সাধারণ জ্ঞানের অধিকারী মাত্র। কাজেই এদের দ্বারা কিভাবে বৌদ্ধধর্ম অনুধাবন, আচরণ করা সম্ভব হবে আমি ভেবে পাচ্ছি না। সাধারণ জ্ঞানের দ্বারা বৌদ্ধধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা তো যাবে না। বুদ্ধ বলেছেন—

বিদর্শন ধ্যান বলে লও প্রজ্ঞা জ্ঞান,

সাধারণ জ্ঞানে কিছু হবে না প্রমাণ।

সুখ-দুঃখ অনুভূতি জাগে অবিরাম,

সুখ শুধু স্বপ্ন তাই, দুঃখ পরিণাম।

কিসের জন্য বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন করা? জ্ঞান উদয় হওত পঞ্চস্কন্ধকে পরিত্যাগ করার জন্য। কারণ পঞ্চস্কন্ধের মধ্যে কিছুমাত্র সত্য, সার, নিত্য এবং কোন সত্ত্ব বা ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই। মার্গ নেই, ফল নেই, নির্বাণ নেই। পঞ্চস্কন্ধকে দুইভাগে দর্শন করা হয়। যারা মার্গফল লাভী তারা পঞ্চস্কন্ধকে অনিত্য, দুঃখ, অনাত্মা ও অশুচিরূপেই দর্শন করে। তাই তারা পঞ্চস্কন্ধে জীব, পুদ্গল, স্ত্রী, পুরুষ, আমি, তুমি সে ইত্যাদি বলে জীব সংজ্ঞায় ধারণা করে না। যারা পৃথগ্‌জন অর্থাৎ মার্গফল লাভী নন তারা পঞ্চস্কন্ধকে নিত্য, সুখ, আত্মা ও শুচিরূপেই দর্শন করে। তজ্জন্য তারা পঞ্চস্কন্ধে জীব, পুদ্গল, স্ত্রী, পুরুষ, আমি, তুমি, সে সব বলে জীব সংজ্ঞা ধারণা করে। আর তাতে আসক্ত হয়ে থাকে। পৃথকজন আবার দুইভাগে বিভক্ত, যথা—(১) কল্যাণ পৃথগ্‌জন ও (২) অন্ধ পৃথগ্‌জন। যারা সর্বদা দান, শীল, ভাবনায় নিজেদেরকে ব্যাপৃত রাখে তারা কল্যাণ পৃথগ্‌জন। যারা সংসার মোহে আচ্ছন্ন তাদেরকে অন্ধ পৃথগ্‌জন বলা হয়। অন্ধ পৃথগ্‌জনেরা কিছুতেই পুণ্যকর্ম সম্পাদন করতে চায় না।

পূজ্য বনভান্তে বলেন—(শাস্ত্রে দেখা যায়) বুদ্ধের সময় দশসন্তানের জননী এক গৃহবধু অরহত্ব লাভের পর সবিস্ময়ে চিন্তা করে-“কী আশ্চর্য! আমি দশ  সন্তানের জননী হয়েও কি করে অরহত্ব লাভ করলাম। সত্যিই আশ্চর্য, অদ্ভুত বটে!” আচ্ছা, সেই দশ সন্তানের জননী কিভাবে অরহত্ব লাভ করেছিল জান? সে তার সন্তানসমূহ মিথ্যারূপে দর্শন করেছে এবং আমিত্ব ধারণা ত্যাগ করেছে, সর্বোপরি অনিত্য দুঃখ অনাত্ম জ্ঞানে সন্তান সন্ততি ত্যাগ করেছে বিধায়। এক কথায় আমি বা আমার বলতে কিছুই নেই এজ্ঞান বর্ধিত করায় সে অরহত্ব লাভ করতে সমর্থ হয়েছিল। তোমাদেরকেও নির্বাণ লাভের জন্য আমি, আমার, আমিত্ব ত্যাগ করতঃ অবিদ্যা নেই, তৃষ্ণা নেই, উপাদান নেই, ক্লেশ নেই ভাবে অবস্থান করতে হবে। অরহত্ব কিরূপে হয় জান? অবিদ্যা নেই, তৃষ্ণা নেই, উপাদান স্কন্ধ নেই, ক্লেশ নেই ভাবে থাকলে। যার চিত্তের মধ্যে অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান, ক্লেশ নেই সেই অরহত বা নির্বাণলাভী। তোমরা সকলে এরূপ বল “আমরা অবিদ্যা মুক্ত, তৃষ্ণা মুক্ত, উপাদান মুক্ত, ক্লেশ নিবৃত্তি করে অরহত্ব লাভ করবো। বর্তমানে যেই অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান, ক্লেশ দ্বারা আমরা দুঃখ পাচ্ছি সেই অবিদ্যা, তৃষ্ণাদি প্রহীন করতঃ নির্বাণ পরম সুখে থাকবো।” বৌদ্ধধর্মের চরম ও পরম সুখ নির্বাণ হল অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান ও ক্লেশের চির নিবৃত্তি অবস্থা। তাই অন্যান্য ধর্মের মধ্যে অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান, ক্লেশ থাকলেও বৌদ্ধধর্মে অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান, ক্লেশ নেই। বৌদ্ধধর্ম অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান, ক্লেশ থেকে সম্পূর্ণ বিমুক্ত একটি ধর্ম। তাই চিত্তের মধ্যে অবিদ্যা, তৃষ্ণাদি বিদ্যমান থাকলে বৌদ্ধধর্ম হৃদয়ঙ্গম করা দূরে থাক, আচরণ করতেও সমর্থ হবে না।

বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা স্বর্গ ব্রহ্মা লাভের শিক্ষা নয়। ভগবান বুদ্ধ সর্ব দুঃখ হতে মুক্ত নির্বাণ লাভের শিক্ষা দিয়েছেন। তজ্জন্য বলা হয়েছে, কি পন্থা অবলম্বন করলে মানুষ যাবতীয় দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করতে পারে, সেই সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করার জন্য বুদ্ধ গৃহত্যাগে কৃত সংকল্প হন। রাজারপুত্র রাজ্যের উত্তরাধিকারী হয়েও জগতের মঙ্গলার্থে জ্ঞানের সন্ধানে বহির্গত হলেন। আবার বুদ্ধ চিন্তা করেছিলেন যে, পৃথিবীর কোন কার্যই কঠোর সাধনা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না। সেই সাধনার মাধ্যমে বুদ্ধ সর্বজ্ঞতা জ্ঞান লাভ করেন। এভাবে নিজে সর্ব দুঃখ হতে মুক্ত হয়ে এখন লোকের মুক্তির জন্য ধর্ম প্রচার করতে শুরু করেন। তোমাদেরকেও বীর বিক্রমের সহিত একের পর এক বাধা অতিক্রম করে নির্বাণ লাভ করতে হবে। নির্বাণ লাভের পথে যেই রকম বাধা-বিপত্তি উপস্থিত হোক না কেন সেই সব বিপত্তিকে টপ্‌কিয়ে যেতে হবে। কিছুতেই পিছু হটে আসতে পারবে না। মারের সৃষ্ট শত সহস্র প্রলোভন, লোমহষকর হুমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শনেও অদম্য বীর্যের সাথে আপন অভিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। আচ্ছা, মারের প্রলোভনে, হুমকিতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে তোমরা কি প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে সোজা গৃহী হয়ে যাবে? সে রকম হীন বীর্য হলে তো নির্বাণ লাভ করা যাবে না। মনে রাখবে একবার যখন প্রব্রজিত হয়েছ জীবন ধ্বংস হয়ে গেলেও প্রব্রজ্যা ত্যাগ করবে না। যেই লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে প্রব্রজিত হয়েছ মাঝপথে এসে সেই লক্ষ্য বিসর্জন দিবে না। “যে বাক্কুয়া ধচ্চ্যা সিবে ধুঝগৈ; আদ্দান্যা ন-গচ্যা”। অর্থাৎ যেই কাজটি শুরু করেছ সেটা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত করে যাও, অর্ধেক বা কিছু অংশ করার পর ইস্তফা দিবে না। তাই বলা হয়েছে—

এগিয়ে চল, এগিয়ে চল

এগিয়ে চল বীর।

ক্লেশ, কাঁটায় ফুটবে না গো

সোজা পথে চলো ধীর।

এসব শুনলে তোমাদের কি বীর্য উৎপন্ন হয় না? আমার তো শতগুণে বীর্য বৃদ্ধি পায়। জঙ্গলে অবস্থান করার সময় এগুলো আমি প্রায়ই আবৃত্তি করতাম। আর প্রবল উৎসাহ সৃষ্টি করতাম মনের মধ্যে। সেই উৎসাহ উদ্দীপনার দ্বারা আমি কখনো ভেঙ্গে পড়িনি নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও। তোমাদেরকে সর্বদা আত্মোৎকর্ষ সাধনে তৎপর থাকতে হবে। সেই আত্মোৎকর্ষ কি? আপন উন্নতি, আপন শ্রেষ্ঠত্ব, স্বকীয় উৎকৃষ্টতা। ‘কিরূপে আমি নিজকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, নিজকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন করব এবং নিজকে উৎকৃষ্টরূপে প্রতিষ্ঠা করব’ এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাসমূহ তোমাদেরকে সব সময় মনে জাগরুক রাখতে হবে। মনের মধ্যে যাদের নিকট আপন উন্নতি, আপন শ্রেষ্ঠত্ব ও স্বীয় উৎকৃষ্টতা সাধনের চেষ্টা থাকে তারা কিছুতেই পাপকর্ম সম্পাদন করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন—তোমরা পরধর্ম, পরকর্ম সম্পাদন করবে না, নিজধর্ম (সদ্ধর্ম) এবং নিজ (আপন) কর্ম সম্পাদন কর। যদি দুঃশীলতা আচরণ কর তাহলে সেটা পরধর্ম পরকর্ম করতেছ বলে জানবে। ভগবান বুদ্ধ ভিক্ষুসঙ্ঘ ও উপাসক-উপাসিকাদের সামগ্রিক জীবন-যাপন এবং আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যেই বিনয় বা শীল প্রজ্ঞপ্তি করেছেন আসলে তা কি জান? পরধর্ম পরকর্ম সম্পাদন করতে বারণ করেছেন মাত্র। তজ্জন্য বলা হয়েছে—

বুদ্ধের আপন কাজে শীল রত্ন যত,

কর্মগুণে লও কিনে, পরিধান কর অবিরত।

সদ্ধর্ম আচরণ ও আপনকর্ম সম্পাদন করতেই শীলের প্রয়োজনীয়তা। শীল বা বিনয় শব্দের অর্থ হল দুর্নীতি বিরোধ আদেশ, অপরাধ করলে প্রায়শ্চিত্তের বিধান। তোমরা দুর্নীতি আচরণ না করে, সুনীতি আচরণ কর। নিজকে সবসময় দুর্নীতি হতে পৃথক রেখে সুনীতি আচরণ করাই হল তোমাদের আসল কাজ। আচ্ছা, অপরাধ করলে কিভাবে প্রায়শ্চিত্তের ভোগ করা যায়? কে অপরাধ করে জান? চিত্ত চৈতসিক ও রূপের দ্বারাই অপরাধ সংঘটিত হয়। এই অপরাধ বা পাপ সর্বমোট দেড় সহস্র। যথা চিত্ত ১ + চৈতসিক ৫২ + নিষ্পন্নরূপ ১৮ + লক্ষণরূপ ৪ = ৭৫ এইগুলোকে দশক্লেশ দ্বারা গুণণ করলে ৭৫দ্ধ১০ = ৭৫০। আধ্যত্মিক ও বাহ্যিক ২ কলুষ দ্বারা গুণন করলে ৭৫০দ্ধ২ = ১৫০০। এইরূপে পাপ সর্বমোট দেড় সহস্র। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সমস্ত অপরাধের মূলে রয়েছে চিত্ত, চৈতসিক। প্রায়শ্চিত্ত করার অর্থ চিত্তকে অপরাধ হতে ফিরে আনা। চিত্তে চৈতসিক, রূপ এগুলো হল অনিত্যধর্ম, দুঃখপূর্ণ ধর্ম। আর নির্বাণ হল অনাত্ম ধর্ম, অনাত্ম ধর্মের দ্বারা নির্বাণ লাভ হয়। তোমরা অনিত্য ধর্ম করবে না, দুঃখপূর্ণ ধর্ম করবে না। অনিত্যধর্ম, দুঃখপূর্ণ ধর্ম করলে পাপ উৎপন্ন হয়। চিত্ত, চৈতসিক, রূপের মধ্যে না থাকলে নির্বাণ লাভ হয়। তখন কোন প্রকার পাপ উৎপন্ন হবার অবকাশ নেই, যাবতীয় পাপ হতে চির বিমুক্তি।

তোমরা বাজে কথা বলে বাজে গল্প দিয়ে সময় কাটাবে না। বুদ্ধ বলেছেন—হে ভিক্ষুগণ! তোমরা একে অপরে সাক্ষাৎ হলে ধর্মালাপই করবে। তা না হলে মৌনভাব অবলম্বন করে থাকবে। বুদ্ধ আরো বলেছেন, সমস্ত দিন আলাপে সালাপে কাটায়ে, সারারাত্রি নিদ্রা গিয়ে অজ্ঞানী ব্যক্তি ক’বে সংসার হতে মুক্ত হবে? তাই তোমরা বল-“আমরা সারাদিন আলাপে সালাপে সময় নষ্ট করব না এবং সারারাত্রি নিদ্রা যাব না।” আমি তো তোমাদেরকে মাঝে মাঝে খুব বেশি কথা বলতে শুনি। তোমাদের কি এখনো নিরবতা পালন শিক্ষা বর্ধিত, বহুলীকৃত হয়নি। বেশি কথা বলতে সঙ্কোচ বোধ করবে। যদি কথা বলতে হয় তাহলে দশ প্রকার আর্যসম্মত আলাপই করবে। যথাঃ-(১) শীল কথা-শীল সম্বন্ধীয় আলাপ করা (২) সমাধি কথা-সমাধি সম্বন্ধীয় আলাপ করা (৩) প্রজ্ঞা কথা-প্রজ্ঞা উৎপাদনমূলক আলাপ করা (৪) বিমুক্তি কথা-অরহত্ব ও নির্বাণ বিষয়ক আলাপ করা (৫) বিমুক্তি জ্ঞানদর্শন কথা-অর্জিত জ্ঞানের পর্যবেক্ষণ আলাপ করা (৬) অল্পেচ্ছা কথা-তৃষ্ণাবহুল না হওয়ার জন্য পরস্পরের সহিত আলাপ করা (৭) সন্তুষ্টি কথা-ধর্মত লব্ধ বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকার জন্য আলাপ করা (৮) প্রবিবেক কথা-প্রবিবেক তিন প্রকার (ক) নির্জন বাস বিষয়ক কায় বিবেক (খ) কাম চিন্তা ত্যাগে ধ্যান চিত্তোৎপাদক চিত্ত বিবেক (গ) পঞ্চস্কন্ধে আমিত্ব ত্যাগে উপধি বিবেক। এই তিন প্রকার বিবেক বিষয়ে আলাপ করা (৯) অসংসর্গ কথা-স্ত্রী সংসর্গ ত্যাগে সুখ এই সম্বন্ধে (বা প্রকারে) আলাপ করা (১০) বীর্যারম্ভ কথা-কিভাবে বীর্যোপাদন করা যায় সেই সম্বন্ধে আলাপ করা। ভগবান প্রব্রজিতগণকে এই দশ প্রকার আর্যসম্মত আলাপ করে একে অপরকে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা দান করতে বলেছেন। যাতে করে প্রব্রজিত জীবন চিরস্থায়ী শ্রীবৃদ্ধি সাধিত হয়ে থাকে। শীল কি? কায়িক, বাচনিক, মানসিক সংযমই শীল। ব্যতিক্রম ক্লেশসমূহ ধ্বংস করতেই শীল। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যতিক্রম ক্লেশসমূহ ধ্বংস হয়ে না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত শীল পালন করতে হবে। প্রাণীহত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা, কটু, ভেদ, বৃথা বাক্য ও মিথ্যাজীবিকা এই আটটি ব্যতিক্রম ক্লেশ। গৃহীদের ক্ষেত্রে মৎস্য, মাংস, অস্ত্র, সুরা, বিষ এই পঞ্চ নিষিদ্ধ বাণিজ্যই মিথ্যাজীবিকা। ভিক্ষুসঙ্ঘের ক্ষেত্রে লপন, কুহন, নিমিত্ত, নিষ্পেষণ এই চতুর্বিধ কর্মই মিথ্যাজীবিকা নামে অভিহিত। লপন কর্ম কিরূপ? ভালো, উত্তম প্রত্যয় লাভের আশায় গৃহীর মনোরঞ্জনার্থে তাদেরকেও প্রতিদান দেওয়া। কুহন কর্ম কিরূপ? অত্যাধিক লাভ-সৎকার, যশকীর্তি, সুনাম লাভের জন্য গৃহীর মন আকষণার্থে আমি খুব শীলবান সমাধি লাভী বলে প্রচার করা তথা নিজের নিকট অবিদ্যমান গুণসকল বিদ্যমান আছে বলে প্রকাশ করতঃ অন্যদের সহিত প্রতারণা করাই কুহন কর্ম। নিমিত্ত কর্ম কিরূপ? অলজ্জী অবস্থায় দর্শন করে থাকা, অর্থাৎ কোন একজন দায়ককে খাদ্য নিয়ে যেতে দেখে নিজে কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্য কিহে, উপাসক খাদ্য আনতেছ, বেশ ভালো খাদ্যই তো পেয়েছ বলে দর্শন করে থাকাকে নিমিত্ত কর্ম বলে। নিষ্পেষণ কর্ম কিরূপ? নিষ্পেষণ অর্থ পরের গুণ মেঁছে ফেলা দেওয়া। সে কি আর শীলবান, প্রজ্ঞাবান, নির্বাণলাভী এভাবে পরের শীলগুণ, ধুতাঙ্গগুণ. মার্গফলগুণ, নির্বাণগুণ মুঁছে ফেলে দিয়ে নিজে লাভবান হওয়ার উপায় অবলম্বনকে নিষ্পেষণ কর্ম বলা হয়। বুদ্ধ কর্তৃক ঘৃণিত এই কর্মদ্বারা জীবন-যাপন করাই (ভিক্ষুদের জন্য) মিথ্যাজীবিকা। এই আটটি ব্যতিক্রম ক্লেশ সমূলে ধ্বংস হলে শীল শিক্ষা সমাপ্ত হবে। তারপর সমাধি শিক্ষা শুরু করবে। সমাধি শিক্ষা কতদিন করতে হবে? যতদিন পর্যন্ত পর্যটন ক্লেশ ধ্বংস না হয় ততদিন পর্যন্ত সমাধি শিক্ষা করে যেতে হবে। সেই পর্যটন ক্লেশসমূহ কি? পঞ্চনীবরণ, যথা—কামচ্ছন্দ, ব্যাপাদ, সত্ম্যানমিদ্ধ, ঔদ্ধত্য-কৌকৃত্য, বিচিকিৎসা। সমাধি শিক্ষা দ্বারা পঞ্চনীবরণ ধ্বংস হয়ে গেলে সমাধি শিক্ষা সমাপ্ত হবে। তখন আর সমাধি শিক্ষার প্রয়োজন থাকবে না। সমাধি শিক্ষা সমাপ্ত হলে প্রজ্ঞা শিক্ষা করতে হবে। প্রজ্ঞা শিক্ষা কতদিন পর্যন্ত করে যেতে হবে? যতদিন পর্যন্ত অনুশয় ক্লেশ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত না হয় ততদিন পর্যন্ত প্রজ্ঞা শিক্ষা করে যেতেই হবে। দশ, বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ যত বৎসর এমনকি জীবন প্রদীপ নিভে যাবার পূর্ব পর্যন্তও যদি অনুশয় ক্লেশ ধ্বংস হয়ে না যায় ততদিন পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রজ্ঞা শিক্ষা করতে হবে। আবার যদি এক, দুই, পনের দিনে অনুশয় ক্লেশ ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে পনের দিনে প্রজ্ঞা শিক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটে যাবে। অনুশয় ক্লেশ কি? সপ্ত অনুশয়, যথা—(১) কামারাগানুশয় (২) ভবরাগানুশয় (৩) প্রতিঘানুশয় (৪) মানানুশয় (৫) দৃষ্টি অনুশয় (৬) বিচিকিৎসানুশয় ও (৭) অবিদ্যানুশয়। শীল শিক্ষা দ্বারা ব্যতিক্রম ক্লেশ, সমাধি শিক্ষা দ্বারা পর্যটন ক্লেশ, প্রজ্ঞা শিক্ষা দ্বারা অনুশয় ক্লেশ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে গেলে দুঃখমুক্তি নির্বাণ হয়। তোমরা অতিসত্বর শীল শিক্ষা, সমাধি শিক্ষা ও প্রজ্ঞা শিক্ষা পর্যায়ক্রমে সমাপ্ত করতঃ নির্বাণ পরম সুখ লাভে তৎপর থাক।

পরিশেষে বনভান্তে বলেন—চারি আর্যসত্য ও প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতিকে যথাযথভাবে জানতে, বুঝতে না পারলে বৌদ্ধধর্ম আচরণ কঠিন হয়ে পড়ে। যারা এই চারি আর্যসত্যকে এবং প্রতীত্য সমুৎপাদনীতিকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বুঝতে, জানতে অক্ষম তাদের দ্বারা বৌদ্ধধর্ম দুর্জ্ঞেয়। অন্যান্য ধর্মের মধ্যে চারি আর্যসত্য, প্রতীত্য সমুৎপাদনীতির কথা নেই বলে তারা পুনর্জন্মের বিশ্বাসী নয়। ফলে নানাবিধ দুষ্কর্ম সম্পাদনে তাদের জন্য সহজ কাজ বৈকি! প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতির কথা নেই বলে তারা পুনর্জন্মকে দেখতে পায় না। যাকে দেখা যায় না তাকে অবিদ্যমান ভাবাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি জ্ঞানের দ্বারা পুনর্জন্মকে দৃষ্টিগোচর হয়। সুতরাং পুনর্জন্মের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায়। সতিপট্‌ঠান সূত্রে পুনর্জন্মকে এভাবে প্রকাশিত করা হয়েছে “যা যং তণ্‌হা পোনোভাবিকা নন্দিরাগ সহগত তত্র তত্রা ভিনন্দিনী”। অর্থাৎ যে তৃষ্ণা পুনর্জন্মের কারণ, যার সহিত আনন্দ ও আসক্তি থাকে, যা যেখানে সেখানে পুনর্জন্ম হবার অভিলাষ করে। যথা—কামতৃষ্ণা, ভবতৃষ্ণা, বিভবতৃষ্ণা। কামতৃষ্ণা হল স্বামী-স্ত্রীরূপে সংসারে সুখভোগের ইচ্ছা বা পঞ্চকামগুণ সুখে প্রমত্ত হওত প্রমত্তার মধ্যে সুখ লাভের ইচ্ছা। ভব তৃষ্ণা-ভব ভবান্তরে সুখ ভোগের বাসনা। কামভব, রূপভব, অরূপভব এই ত্রিভবের মধ্যে নানা যোনিতে পুনঃপুন জন্ম হয়ে সুখ ভোগ করার ইচ্ছা। বিভবতৃষ্ণা-উচ্ছেদ ধ্বংস জনিত বীততৃষ্ণা ইত্যাদির মাধ্যমে সুখ ভোগ করে যাওয়ার ইচ্ছা। চাকমা সমাজে একটা কথা আছে “দিলুং ভাতজড়া গঙারে মলে মরিবোং সমারে” এটাও বিভবতৃষ্ণা বলে জানবে।

তোমরা যদি দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করতে চাও, নির্বাণ সুখ প্রত্যক্ষ করতে চাও তাহলে বুদ্ধের শিক্ষা, উপদেশ গ্রহণ কর। বুদ্ধগুরু ব্যতীত অন্য কোন গুরুর আশ্রয়, শিক্ষা, উপদেশ গ্রহণ করবে না। বুদ্ধ গুরু ব্যতিরেকে কোন গুরুর পক্ষে দুঃখমুক্তি নির্বাণ মার্গ প্রদর্শন করার সামর্থ্য নেই। বুদ্ধের শিক্ষা ছাড়া অন্য কারোর শিক্ষায় নির্বাণ লাভ করা যায় না। তজ্জন্য নির্বাণ লাভেচ্ছুকগণকে এরূপ কৃতসংকল্প হতে হবে যে, “আমি একমাত্র বুদ্ধের উপদেশেই নির্বাণ লাভ করব, অন্য কারোর শিক্ষায় বা উপদেশে নয়।” তোমরাও সেরূপ কৃতসংকল্প হয়ে নির্বাণ লাভী হও। বুদ্ধের শিক্ষা বাদ দিয়ে অন্য গুরুর শিক্ষা গ্রহণে নির্বাণ-বিমুক্তি সম্ভব নহে কি? চিত্তকে সেরূপে সংশয়াচ্ছন্ন করা হলে নির্বাণ লাভ হবে না। বুদ্ধের উপদেশ ও শিক্ষা ভিন্ন কিছুতেই নির্বাণ লাভ হয় না। এইরূপ জ্ঞান সম্প্রযুক্ত চিত্তের অধিকারী হয়ে তোমরা নির্বাণ লাভে তৎপর থাক।

সাধু, সাধু, সাধু

# লেখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে http://rajbanavihara.org/archives/1098#.W98kqZMzbIU  এই ওয়েবসাইট থেকে ।

অসাধারণ জ্ঞান লাভ করতে চেষ্টাশীল হও।

অসাধারণ জ্ঞান লাভ করতে চেষ্টাশীল হও।

by admin | Nov 4, 2018 | blog

এক সময় শ্রদ্ধেয় বনভান্তে নিজ আবাসিক ভবনে ভিক্ষুসঙ্ঘকে দেশনা প্রদান করছিলেন। তিনি প্রথমেই বলেন—ভিক্ষুদের যতদিন চারি আর্যসত্য জ্ঞান লাভ না হয় ততদিন তারা আপত্তিগ্রস্ত হবে। আপত্তি ভেদে নানাবিধ বিনয়কর্মও করতে হয় তাদেরকে। মনে রাখবে, পাপকর্মের মধ্যে মনচিত্ত থাকলে এবং পাপকে সুখ বলে মনে করলে আপত্তিগ্রস্ত হতে হয়। মনচিত্তে যদি অকুশল, পাপ চেতনা না থাকে তাহলে আপত্তিমুক্ত হওয়া যায়। আবার, নিত্য আপত্তিগ্রস্ত হলে তার প্রতিকার স্বরূপ বিনয় করতে করতেই তো জীবন শেষ হয়ে যাবে। তাই তোমরা চারি আর্যসত্য জ্ঞান জানতে, হৃদয়ঙ্গম করতে চেষ্টাশীল হও। তাহলে আপত্তিগ্রস্ত হবে না এবং তার প্রতিকার স্বরূপ নিত্য বিনয় কর্মও করতে হবে না। এটাই যথাযথ নিরাপদ ব্যবস্থা। আর এভাবে প্রকৃত সুখ লাভ হয়। আপত্তিগ্রস্ত হওয়াকে দুঃখ বলে জানবে। অতিসত্বর সে দুঃখ ত্যাগ করতে চেষ্টাশীল হও। বুদ্ধ ভিক্ষুসঙ্ঘকে কামসুখ ও আত্মপীড়ন অনুশীলন না করে শীল-সমাধি-প্রজ্ঞা বা মধ্যম পথ অবলম্বন করে অবস্থান করতে শিক্ষা দিয়েছেন। কামসুখ, আত্মপীড়ন হীন, দুঃখ, অনার্য, পাপজনক এবং সত্য জ্ঞান লাভের প্রতিকুল অবস্থা। তাই বলা হয়েছে কামসুখ, আত্মপীড়নের দ্বারা পাপই উৎপন্ন হয়, দুঃখ সৃষ্টি হয়, এবং অজ্ঞানতা বৃদ্ধি পায়। কামসুখ, আত্মপীড়ন ত্যাগ করতে না পারলে দিন দিন অবিদ্যা, তৃষ্ণা বৃদ্ধি পাবে। আর সে অবিদ্যা, তৃষ্ণার কারণে অজ্ঞান, অকুশলমূলক কর্মের দিকে মনচিত্ত ধাবিত হয়। তাই কামসুখ, আত্মপীড়ন দুঃখমুক্তি নির্বাণ লাভের প্রধান অন্তরায়। পক্ষান্তরে সে দুই অন্ত অনুশীলন না করলে পুণ্য-সুখ বৃদ্ধি পায়, ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়ে জ্ঞান ভাবিত, বর্দ্ধিত, বহুলীকৃত হয় এবং দুঃখমুক্তি নির্বাণ লাভ করা সম্ভব হয়।

তোমরা কামসুখ ত্যাগ করতঃ নিষ্পাপ ব্রহ্মচর্য আচরণ কর। নিষ্পাপ ব্রহ্মচর্য আচরণ দ্বারা অনবদ্য সুখ লাভ হয়ে থাকে। কখনো শিথিলভাবে ব্রহ্মচর্য আচরণ করবে না। শিথিলভাবে ব্রহ্মচর্য আচরণ করলে সুফলের পরির্বতে কুফলই প্রদান করবে। দুগ্রহীত কুশতৃণ যেমন হস্তকে কর্তন করে তেমনি শিথিলভাবে আচরিত ব্রহ্মচর্য জীবনকে অধিকতর কলঙ্কিত করে। আর এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, পৃথিবীতে কোন কলুষিত ব্রতই মহৎ ফলপ্রসু হয় না। তাই শিথিলভাবে আচরিত ব্রহ্মচর্য আসক্তি প্রবৃত্তির দিকে বেশি আকর্ষণ করে থাকে।

‘আমি মানুষ’ এ ধারণা, ‘সে পুরুষ’ এ ধারণা, ‘সে মহিলা’ এ ধারণা পোষণ করে অবস্থান করো না। এ ধারণাসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভ্রান্ত দর্শন মাত্র। পঞ্চস্কন্ধকে (শরীর) যদি বিভেদ করে দর্শন করা হয়, তাহলে সেখানে কোন ‘মানুষ-পুরুষ-মহিলা’ বা কোন সত্ত্বের অস্তিত্ব মিলে না। তাই ‘মানুষ-পুরুষ-মহিলা’ এ ধারণাসমূহের অস্তিত্ব খোঁজাকে অজ্ঞানতা বশতঃ মিথ্যা ধারণা বলা যায়। এতে শুধুমাত্র অজ্ঞান, মিথ্যাদৃষ্টি উদয় হয় ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। অজ্ঞান, মিথ্যাদৃষ্টি হতে বিবিধ দুঃখের উৎপত্তি। তোমাদের মনচিত্তে যদি অজ্ঞান, মিথ্যাদৃষ্টি উদয় হয়ে থাকে, তাহলে তোমাদেরকে দুঃখই পেতে হবে। তোমরা ‘আমি মানুষ’, ‘সে পুরুষ’, ‘সে মহিলা’ এ ধারণাসমূহ ত্যাগ করতঃ অজ্ঞান, মিথ্যাদৃষ্টি বিদূরীত করে প্রকৃত সদ্ধর্ম অনুশীলন কর।

শ্রদ্ধেয় বনভান্তে বলেন—সদ্ধর্ম আচরণ করতঃ পরধর্ম ত্যাগ কর। এবং পরকাজ ত্যাগ করে নিজকাজে প্রতিষ্ঠিত থাক। সেই সদ্ধর্ম কি? মার্গফল নির্বাণ সাক্ষাৎ করাকে সদ্ধর্ম বলে। আর স্বর্গ, ব্রহ্ম লাভ করার তাগিদে যে সমস্ত পুণ্যকাজ করা হয় তা’ পরধর্ম বলে জানবে। মার্গফল নির্বাণ ব্যতীত অন্যান্য ধর্ম পুণ্য করাকে পরধর্মের মধ্যে অন্তর্গত করা যায়। জ্ঞানের সহিত অবস্থান করাকে নিজকাজ, অজ্ঞানের বশীভূত হয়ে অবস্থান করাকে পরকাজ বলে। অজ্ঞানীরা সব সময় পরধর্ম, পরকাজসমূহ করে থাকে, কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তিগণ সদ্ধর্ম অনুশীলন ও নিজকাজ সম্পাদন করে থাকে। আমি তো দেখতেছি যে, বর্তমানে প্রায় সবাই পরধর্ম, পরকাজ করতেই ব্যস্ত। পরকাজ, পরধর্মের মধ্যে তারা সুখ, আনন্দ, উলস্নাসের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। কিন্তু তাদের সে সুখ, আনন্দ, উলস্নাস একদিন মিথ্যা হয়ে যাবে। তাদেরকে পরকাজ, পরধর্ম করার মাশুল দিতে হবে—দুঃখ, কষ্টেভরা হাহাকার হৃদয়ে। পরধর্ম, পরকাজ সম্পাদনের মাধ্যমে প্রকৃত লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদিও মরুভূমিতে সৃষ্ট মরীচিকা জালের ন্যায় সুখ ভ্রম দৃষ্ট হয় যায়। তোমরা সাধারণ জ্ঞান বাদ দিয়ে অসাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে চেষ্টাশীল হও। সে অসাধারণ জ্ঞান হল চারি আর্যসত্য জ্ঞান, প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি জ্ঞান, আসবক্ষয় জ্ঞান। এসব জ্ঞানের দ্বারা পরধর্ম, পরকাজ করা বন্ধ হয়ে যায়, প্রকৃত সুখ লাভ হয়।

বৌদ্ধধর্ম মতে বি, এ পাশ, এম, এ পাশ, ডক্টরেট ডিগ্রীধারীদেরকে প্রকৃত শিক্ষিত বলা চলে না। যারা সপ্তত্রিংশ বোধিপক্ষীয় ধর্ম সম্বন্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জ্ঞান লাভ করেছেন একমাত্র তারাই প্রকৃত শিক্ষিত। সে বোধিপক্ষীয় ধর্মসমূহ কি? চারি স্মৃতিপ্রস্থান, চারি সম্যক প্রধান, চারি ঋদ্ধিপাদ, পঞ্চেন্দ্রিয়, পঞ্চ বল, সপ্ত বোধ্যঙ্গ, আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ। এ সকল বোধিপক্ষীয় ধর্মসমূহ জানতে, বুঝতে সক্ষম হলে অসাধারণ জ্ঞান অর্জন হয়। এসব ধর্ম সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ হলে অজ্ঞান বিদ্যমান থাকতে পারে না। অজ্ঞান বিদ্যমান না থাকলে প্রব্রজিত জীবন সুখে, শান্তিতে অতিবাহিত করা যায়। কিন্তু বোধিপক্ষীয় ধর্মসমূহ সম্বন্ধে অজ্ঞান হলে প্রব্রজিত জীবন দুর্বিষহ দুঃখে ভবে উঠে। এমন কি প্রব্রজিত জীবন ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। আমি অনেক ভিক্ষুকে বলতে শুনেছি-‘খুব কষ্ট পাচ্ছি, মরে যেতে পারতাম ভালো হতো।’ এটা থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলে যে, বর্তমানে অনেক ভিক্ষু বোধিপক্ষীয় ধর্ম সম্বন্ধে অজ্ঞ। যেমন, বৃক্ষ্জিৎ, অক্ষ্রানন্দ তারাও বোধিপক্ষীয় ধর্ম সম্বন্ধে অজ্ঞ ছিল বিধায় বর্তমানে সংসারী হয়েছে। বর্তমান ভিক্ষুদিগের আচার-আচরণ অনুসারে আমি তিনভাগে ভাগ করে থাকি। যথা—১) কেহ প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে বিয়ে করতঃ সাধারণ সংসারী হয়ে যায়। ২) কেহ প্রব্রজিত অবস্থায় নারীর সাথে প্রেম করতঃ সে নারীকে নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। আর শেষে প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে। ৩) কেহ প্রব্রজিত জীবন ত্যাগ করে না .

# # লেখাটি Rony barua  Rony Barua কর্তৃক পোস্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে । 

 

পাহাড় সমতল আলোকিত করেছেন যিনি

পাহাড় সমতল আলোকিত করেছেন যিনি

by admin | Nov 4, 2018 | blog

পাহাড় সমতল আলোকিত করেছেন যিনি

লিখেছেন – ইলা মুৎসুদ্দি

তিনি যদি আবির্ভূত না হতেন হয়তো এতোদিন আরো অনেক বেশী অন্ধকারে তলিয়ে যেতো পাহাড়ি জনপদের বৌদ্ধ বাসিন্দারা। হয়তো অনগ্রসর আর পিছিয়ে পড়া সমাজে তাদের নাম উঠে যেতো। সেই সাথে সমতলের বৌদ্ধদের মধ্যেও ধর্মের পুনর্জাগরণ হয়তো ঘটতো না। একসময় পাহাড়ি জনপদ ছিল খুবই অশান্ত। সবসময় মারামারি, হানাহানি লেগেই থাকতো। তাদের মধ্যে কোনরকম ঐক্য বা ন্যায় নীতির বাচবিচার ছিল না। এরিই মধ্যে হঠাৎ করে সমস্ত অন্ধকার জগত আলোকিত করে আবির্ভূত হলেন বনভন্তে। রাঙ্গামাটি জনপদে ভান্তে অবস্থান করার পর থেকে ক্রমে ক্রমে পাহাড়ী জনগণের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসতে শুরু করলো। সকলের মধ্যে ধর্মচেতনা জাগতে শুরু করলো। বেশীর ভাগ পাহাড়ী পুরুষ-মহিলা তরুণ ছেলে-মেয়েরা বনবিহারে যাওয়া আসা করতে লাগলো। পর্যায়ক্রমে সমতলের বৌদ্ধরাও বনবিহারে যাতায়াত করতে লাগলেন বনভান্তের দেশনা শোনার জন্য। বনভান্তেকে একনজর দেখার জন্য। আসলে যেখানে সত্যিকারের ধর্মের ভিত রচিত হয়, সেখানে সবকিছুর পরিবর্তন হয়। পাহাড়ী ভাই-বোনদের মধ্যেও বিপুল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তাদের পারিবারিক, আর্থিক সামাজিক উন্নয়ন ঘটতে লাগলো। আজ তারা বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী বড় বড় পদে কর্মরত।

পাশাপাশি সমতলের বৌদ্ধদের মধ্যেও যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হলো। বনভান্তে শিষ্য শ্রামণ ভিক্ষুদের কঠোরভাবে অনুশাসন করে শৃংখলাময় জীবন গঠনের ভিত রচিত করে দিয়েছেন। যার জন্য আমরা লাভ করেছি পুণ্যার্জনের সুযোগ। বুদ্ধের সময়কালীন বুদ্ধ নির্দেশিত পথেই হঠাৎ করে ধীর্ঘ সময়ের পর ভিক্ষুদের সকালে পিন্ডাচরণের মাধ্যমে পিন্ড দানের সুযোগ লাভ। কারণ বনভান্তের শিষ্য মানেই সকালে পিন্ডাচরণ নির্ধারিত। সকলেই খুবই শ্রদ্ধা সহকারে পিন্ড দান দিতে উৎসাহী হয়। ক্রমান্বয়ে পিন্ডাচরণের পরিধি বৃদ্ধি পেতে পেতে আজ শহর এলাকায়ও আমরা পিন্ডাচরণ দিতে পারছি। এমনকি বনবান্তের শিষ্য যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তাঁরাও সকালে পিন্ডাচরণ করেন। শহর এলাকা কিংবা সমতলের চাইতে পাহাড়ীদের পিন্ডদানের দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। সত্যিই তাদের দানচেতনা খুবই সুন্দর। কত শ্রদ্ধা সহকারে তারা দান দেয়, শীল পালন করে। আমরা হয়তো একটি কলা কিংবা ৬টি কলা দান করি কিন্তু পাহাড়ী ভাই-বোনেরা দান করে এক ছড়া। হয়তোবা বলা হবে, তাদের বেশী আছে তাই বেশী দান দেয়। আসলে সেটা ভুল কথা। আমাদের মধ্যে অনেকেরও কিন্তু ঐরকম দান করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু আমরা তাদের মতন ঐরকম দান সহজে দিতে পারি না।

এভাবেই শুরু হলো পাহাড়ীদের উন্নয়নের ইতিহাস। ক্ষুদ্র আলো আস্তে আস্তে বিকিরণ দিতে দিতে পুরপূর্ণভাবে বিচ্ছুরিত হতে লাগলো। পাহাড় সমতলে ধর্মের জোয়ার সৃষ্টি হলো। পাহাড়ী আর সমতলের জনগণের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি সৃষ্ঠি হলো। সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাদি করতে লাগলো। শুধু তাই নয়, বনভান্তের জন্মবার্ষিকী, কঠিন চীবর দান, আকাশ প্রদীপ, ত্রিপিটক বা ধর্ম পূজা, রাত ব্যপি সুত্র শ্রবণ ইত্যাদি। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে লাগলেন। বনভান্তে প্রথম বুদ্ধের সময়কালীন মহাউপাসিকা বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত নিয়মে একই দিনে অর্থাৎ ২৪ ঘন্টার মধ্যে কাপড় বুনন, রংকরণ এবং তৈরী করে দান করার পদ্ধতি চালু করলেন। যা বর্তমান সমাজে খুবই প্রচলিত নীতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসেও মানুষ বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে কঠিন চীবর দান করার উদ্যোগ নিচ্ছে সাড়ম্বরে। বনভান্তে জীবিত থাকাকালীন চেয়েছিলেন পূর্ণাঙ্গ ত্রিপিটক বাংলায় প্রকাশিত হোক। পূজনীয় প্রজ্ঞাবংশ ভান্তেকে দিয়ে শুরু করেছিলেন, যা শেষ হলো ভান্তের মহাপ্রয়ানের পর। শেষ করার অদম্য ইচ্ছা পূজনীয় বনভান্তের শিষ্যদের মধ্যে ছিল বলেই তাঁদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন। সেই মহাত্মা বনভান্তের মহাপ্রয়াণের পর কত তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেল।

যারা এসব করছে তারা একবারও চিন্তা করে দেখে না এসব করে কি বনভান্তের সুনাম ক্ষুন্ন করা যাবে? কিংবা পারা সম্ভব? বনভান্তে যদি ধর্মজ্ঞানে বলীয়ান না হতেন তাহলে আজকের রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার এবং অনেকগুলো শাখা বন বিহার সৃষ্টি হতো না। সৃষ্ঠি হতো না সম্যক জ্ঞানসম্পন্ন ভিক্ষু যারা এখনো লোকালয়ে আসেনি, নিভৃতে ধ্যানচর্চা করছে অরণ্যে। বনভান্তের রাজবন বিহার একটি বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। অসংখ্য শিক্ষিত জ্ঞানী ভিক্ষুর জন্ম এই প্রতিষ্ঠান থেকেই। যাঁরা আজ পূর্ণাঙ্গ ত্রিপিটক প্রকাশনা করে বনভান্তের অসমাপ্ত ইচ্ছা পরিপূর্ণ করেছেন। এ এক বিরল সৌভাগ্য আমাদের। এখনো বনভান্তের জন্মবার্ষিকী এবং মহাপ্রয়াণ দিবসে মানুষের ঢল নামে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে। কেন? কারণ একটাই বনভান্তের শিক্ষা।

জ্ঞান লাভ সত্য লাভই প্রব্রজিতদের প্রকৃত লাভ —বনভান্তে

লৌকিক সত্য ও লোকোত্তর সত্য

by admin | Nov 4, 2018 | blog

৪ঠা অক্টোবর, ১৯৯৬ ইংরেজী। ভোর বেলায় শ্রদ্ধেয় বনভান্তে তাঁর শিষ্যদেরকে ধর্মদেশনা দিচ্ছিলেন। প্রথমেই তিনি বলেন- তোমরা কি জন্যে ভিক্ষু শ্রামণ হয়েছ? আর না অন্য কিছু? কেউ কেউ যাত্রা দলের অভিনয়ের মত ভিক্ষু শ্রামণ হয়ে থাকে। তা কি রকম জান? যেমন যাত্রা দলে কেউ রাজা হয়, রাজার বেশ ধারণ করে, কেউ প্রজা, প্রজার বেশ ধারণ করে। অন্যান্য জন অন্যান্য জনের বেশ ধারণ করে থাকে। তোমরাও ভিক্ষু শ্রামণের বেশ ধারণ করে ভিক্ষু শ্রামণের অভিনয় করতেছ নাকি? যারা অভিনয়কারী তারা রাত্রে অভিনয় করে দিনে নিজ নিজ পোশাক পরিধান করে। ঠিক সে রকম তোমরাও যাত্রা দলে অভিনয় কর না। সত্য সত্যই ভগবান বুদ্ধের নীতি অনুসরণ করে প্রকৃত ভিক্ষু শ্রামণ হও।

তিনি বলেন- সত্য দুই প্রকার। ব্যবহারিক সত্য ও পারমার্থিক সত্য। অন্য নামে বলা যায়- লৌকিক ও লোকোত্তর। লৌকিক- মা-বাপ, ভাই-বোন, স্ত্রী-পুরুষ, ধন-সম্পদ প্রভৃতিকে বুঝায়। লোকোত্তরে মা-বাপ, ভাই-বোন, স্ত্রী-পুরুষ, ধন-সম্পদ প্রভৃতি কিছুই নেই (বুঝায়)। লৌকিক গুলি স্বপ্ন সদৃশ, লোকোত্তর গুলি বাস্তব। যেমন একজন লোক রাত্রে ঘুমের সময় দুই মণ স্বর্ণ পেয়েছে, দিনে সে গুলি নেই। অন্যজন সত্যি সত্যিই দুইমন স্বর্ণ পেয়েছে। প্রথম জন পেল কল্পনা প্রসূত এবং দ্বিতীয় জন পেল বাস্তবে। প্রথম জন হল লৌকিক ও দ্বিতীয় জন হল লোকোত্তর।

তিনি আরো বলেন- যেমন ধর, একজন লোক স্ত্রী পুত্র ছেড়ে ভিক্ষু হয়েছে। যদি সে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে তার কি ছাড়া হয়েছে? চিত্তের মধ্যে স্থান দিলেও ছাড়া হবে না। আন্দাজ করে ছাড়লেও ছাড়া হবে না। সিদ্ধার্থ গোপাকে যেমন করে ছেড়ে দিয়েছেন তেমন করে ছেড়ে দিতে হবে।

রাজা মিলিন্দ ভিক্ষু নাগসেনকে প্রশ্ন করেছিলেন- শ্বেত বস্ত্র নিয়ে মার্গফল ও নির্বাণ লাভ করতে পারে কিনা? আচ্ছা, এখন তোমরা কোন দিকে বলবে? তোমরা যেদিকে উত্তর দিবে সেদিকে ধরা পড়বে। ভগবান বুদ্ধের সময়ে একজন নূতন ভিক্ষুকে প্রশ্ন করেছিল। তিনি বললেন- আমি নূতন ভিক্ষু। সুতরাং ভগবান বুদ্ধকে প্রশ্ন করতে পারেন। সে রকম তোমাদেরকে প্রশ্ন করলে বলবে আমাদের গুরু শ্রদ্ধেয় বনভান্তের নিকট প্রশ্ন করুন।

তিনি বলেন- কে খায়? কে খায় না? লোভ ও তৃষ্ণায় খায়। লোভ ও তৃষ্ণা না থাকলে খাবে না। খেলে দেবে, না খেলে কিছুই দেবে না। তাহলে উপায় কি? লোভে আহার করে। তৃষ্ণায় আহার করে। লোভ, তৃষ্ণা নিরোধ করে আহার করলে লোভ তৃষ্ণা মুক্ত হয়। আহার চার প্রকার- স্থূল আহার, স্পর্শ আহার, বেদনা আহার ও বিজ্ঞান আহার। এ আহার গুলি কিভাবে নিরোধ করবে? আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই আহার নিরোধের একমাত্র উপায়। যতক্ষণ পর্যন্ত আহার নিরোধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত মুক্ত হতে পারবে না।

আচ্ছা যদি কেউ তোমাদেরকে নির্বাণ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে- নির্বাণ আধ্যাত্মিক না বাহ্যিক? চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক ও মন আধ্যাত্মিক- রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও স্বভাব ধর্ম বাহ্যিক। এগুলির মধ্যে কোথায় নির্বাণ? কোথায়ও নেই নির্বাণ। বাতাস যেমন শরীর দ্বারা অনুভব করা যায় নির্বাণ ও চিত্তের দ্বারা অনুভব করা যায় মাত্র। চর্ম চক্ষে নির্বাণ দৃষ্টি গোচর হয় না।

মহা জ্ঞানী অার্য্যগণ
যে পথে করেছে গমন।
লভিয়াছে সম্যক দর্শন
সেই পথ লক্ষ্য করে
আচরিবে ধৈর্য্য ধরে
সার্থক কর এই জীবন।।

এখানে প্রতীত্য সমুৎপাদ নীতি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি হল মহাজ্ঞানী। যে ধর্ম করলে সুখ ও মুক্ত হয়, সে ধর্মে বিশ্বাসও জন্মে।

শ্রদ্ধেয় বনভান্তে বলেন- আচ্ছা বলদেখি, তোমরা নির্বাণ যেতে যেতে অর্ধপথে নেমে পড়লে যাওয়া কি হবে? যাওয়া হবে না। অনেকে গুন্ডার কবলে পড়ে। গুন্ডা হল নারী। যুবক কেন বৃদ্ধেরা ও গুন্ডার হাতে পড়ে। তোমরা গুন্ডার তালাশ কর না। নির্বাণ তালাশ কর। নির্বাণ ব্যতীত অন্য গুলি পাপ, দুঃখ ও মুক্ত নয়। যাঁরা জ্ঞানী তাঁরা নির্বাণ তালাশ করে। যারা অজ্ঞানী তারা অন্য কিছু তালাশ করে। তোমরা যেগুলি ফেলে এসেছ সেগুলি আবার তালাশ কর না। অবিদ্যা, তৃষ্ণায় লইতে চায় ও থাকতে চায়। অবিদ্যা নিরোধ হলে সব ঠিক হয়। অবিদ্যা, তৃষ্ণা ক্ষয় হলে সব ক্ষয় হয়। সব যদি ক্ষয় হয়ে যায় তার আবার কিসের প্রয়োজন? ট্রেন চলার সময় যদি বিপদ হয় শিখল টানলে পুলিশ রক্ষা করে। ঠিক সেরকম তোমাদের যদি কোন বিপদ আসে ত্রিশরণ ও ত্রিলক্ষণকে স্মরণ কর। ত্রিশরণে পূণ্য ও সুখ হয়। ত্রিলক্ষণে নির্বাণ সাক্ষাৎ লাভ হয়।

তিনি আরো বলেন- এ সংসারে যাবতীয় গন্ডগোল ও ভেজাল কে করেছে? অবিদ্যা, তৃষ্ণায় যাবতীয় গন্ডগোল ও ভেজাল করছে। অবিদ্যা, তৃষ্ণায় অন্যায় স্বীকার করে না, ভুল স্বীকার করে না, অপরাধ স্বীকার করে না এবং গলদ স্বীকার করে না। তাই তিনি কবিতার ছন্দে বলেন-

কোথায় কত ভবে জনম নিয়েছি।
জন্ম মৃত্যু শোক তাপ কত সহেছি
নিদারুন দুঃখ তাপে জর্জরিত এ প্রাণ।
জ্ঞান বলে মুক্ত তবে আজি, গাই মুক্তির গান-
বাঁধিতে পারিবে না আর এ দুঃখ কারাগার।।
মুক্ত হয়েছি আমি লভিব নির্বাণ।।

শ্রদ্ধেয় বনভান্তে বীর বিক্রমে দেশনা করে বলেন- যারা কাপুরুষ তারা নির্বাণ যেতে পারে না, যাঁরা বীর পুরুষ তাঁরা নির্বাণ যেতে পারে।

ভিক্ষুরা ভাত কেন খায়? ভিক্ষুর লাভের জন্যে নয়, মানুষের সুখ হওয়ার জন্যে জীবিতে ইন্দ্রিয় রক্ষা করে নির্বাণ যাওয়ার মার্গ আবিষ্কারের মানসে। নির্বাণে মানুষ নেই, নারী নেই, পুরুষ নেই। মানুষ, নারী, পুরুষ দুঃখ-পাপ ও মুক্ত নয়। মানুষ মিথ্যা ও নারী-পুরুষ মিথ্যা। চিত্তে অবিদ্যা উৎপত্তি হলে চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক ও মনে দুঃখ উৎপত্তি হয়। যদি কেউ বলে সুখ, সেগুলি সুখ নয়, দুঃখ রাশি মাত্র। চারি আর্য্যসত্য উদয় হলে সম্যক দৃষ্টি উদয় হয়। সম্যক দৃষ্টি দুই প্রকার। লৌকিক ও লোকোত্তর সম্যক দৃষ্টি। নারী পুরুষ মরবে ঠিকই কিন্তু কর্ম মরবে না। যতদিন অবিদ্যা, তৃষ্ণা নিরোধ না হয়। তোমরা কর্ম ধ্বংস কর, নিরোধ কর। কর্ম ক্ষয় ও পাপ ধর্ম ত্যাগ করলে পুনজন্ম হয় না, পাপ ধর্ম ত্যাগ করলে নির্বাণ প্রত্যক্ষ হয়। নির্বাণে কর্মও নেই ধর্মও নেই। কিন্তু এ জগতে প্রত্যেককে কর্মফল ভোগ করতে হয়।

# লেখাটি  ‎Subrata Barua‎  কর্তৃক পোস্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে । 

মানবতাবাদী গৌতম বুদ্ধ

উপাসকের দশবিধ গুণ

by admin | Nov 2, 2018 | blog

যিনি বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘের উপাসনা করেন, অর্থাৎ ত্রিরত্নের শরনাগত, তথাগত নির্দেশিত গৃহী শীল পালন করেন, তিনি উপাসক নামে খ্যাত, উপাসকের দশবিধ গুণ আছে।

১) যিনি উপাসক তিনি ভিক্ষু সংঘের সুখী হবে, দুঃখের দুঃখী হবেন।
২) ধর্মকে অধিপতি রুপে গ্রহণ করবেন।
৩) সর্বদা যথাশক্তি দানে রত থাকবেন।
৪) বু্দ্ধ শাসনের পরিহানী মূলক কিছু দেখলে তা প্রতিকার করেশাসনের উন্নতির জন্য কাজ করেন।
৫) সম্যক দৃষ্টি সম্পন্ন হয়ে এবং মিথ্যাদৃষ্টি পরিত্যাগ করবেন।
৬) জীবনান্তে ( মরে গেলে) ও অন্য ধর্ম গ্রহণ করবেন না।
৭) কায়িক, বাচনিক ও মানসিক দ্বার সুসংযত করবেন।
৮) সর্বদা বু্দ্ধ, ধর্ম ও সংঘের শরণাপন্ন থাকবেন।
যে মানব এই দশবিধ গুণ প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তিনি কখনো চারি অপায়( নরক, প্রেত তির্য্যক, অস্তর) গমন করবে না।

#লেখাটি  ‎Nirghum Sepi‎  কর্তৃক facebook পোস্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে । 

 

« Older Entries
Next Entries »

সর্বাধিক পঠিত

  • অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান জীবনী
  • অন্যায়,অপরাধ,ভুল,দোষ ও গলদ করো না- ত্রিরত্ন ডট কম
  • বৌদ্ধ ধর্মে মার কী বা কারা?
  • ঠেগরপুনি বুড়োগোঁসাই বিহারের ইতিকথা- ত্রিরত্ন ডট কম
  • কারণ, হেতু, প্রত্যয় ও নিদান

Categories

  • blog
  • content
  • Event
  • great monk
  • jatok
  • Post
  • Uncategorized
  • Facebook
  • Twitter
Copyright 2018 © Trirotno && Developed by Anik Barua
error: Content is protected !!